দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের মাধ্যমে ফিরেছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। এতে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন স্থানীয়রা। এসব প্রকল্পের সুফল পাবেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, সরকারের ‘সারা দেশের পুকুর-খাল উন্নয়ন’ (আইপিসিপি) এবং ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাঁচটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
এর মধ্যে শুক্তাগড় ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি নদী থেকে পিংড়ি হয়ে কাঠাখালী পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
এ ছাড়া সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার ৮০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ টাকা, যার সুফল পাবেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ।
রাজাপুর সদর ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এতে উপকৃত হবেন প্রায় ১২ হাজার ৫০ জন।
তুলাতলি এলাকার ২ হাজার ৯০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এতে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। এছাড়া রাড়িবাড়ি খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। এর সুফল পাবেন আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ।
স্থানীয় কৃষক রিপন সিকদার, কাদের সিকদার ও করিম বলেন, আগে খালে পানি না থাকায় সেচ দিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন সহজেই সেচের পানি পাওয়া যাবে, ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিখারানি, মনিকা রায় ও শেফালি বেগম জানান, খাল ভরাট থাকায় রান্না, গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে পানির সংকট ছিল। পুনঃখননের ফলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই দূর হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ে, জলাবদ্ধতা কমে, দেশীয় মাছের আবাসস্থল তৈরি হয় এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তবে এ সুফল ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে। পাশাপাশি এসব প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
একসময় দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে ওঠা খালগুলো এখন রাজাপুরের কৃষক ও সাধারণ মানুষের নতুন আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তবে এই সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এমএস/